বাংলাদেশে পুঞ্জীভূত বসতি দেখা যায় কোন জেলায়?

Updated: 3 months ago
  • ক
    ময়মনসিংহ
  • খ
    নারায়ণগঞ্জ
  • গ
    রাঙ্গামাটি
  • ঘ
    পটুয়াখালী
56
ব্যাখ্যাঃ

বসতি স্থাপন পদ্ধতিতে ঘরবাড়িগুলোর একত্রীকরণের ধরন অনুযায়ী বসতিকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়। এর মধ্যে অন্যতম হলো পুঞ্জীভূত বসতি (Nucleated Settlement) বা সংঘবদ্ধ বসতি। যখন কোনো একটি নির্দিষ্ট স্থানে ঘরবাড়িগুলো ঘনসন্নিবিষ্টভাবে এবং খুব কাছাকাছি গড়ে ওঠে, তখন তাকে পুঞ্জীভূত বসতি বলে। এই ধরনের বসতি সাধারণত সমতল ভূমি, উর্বর কৃষিজমি, পানীয় জলের সহজলভ্যতা, বাজার বা সড়ক সংযোগের মতো অনুকূল পরিবেশে গড়ে ওঠে।

বাংলাদেশে পুঞ্জীভূত বসতি প্রধানত সমভূমি অঞ্চলের জেলাগুলোতে বেশি দেখা যায়, যেখানে কৃষি কাজ প্রধান জীবিকা এবং মানুষ নিরাপত্তার জন্য বা সামাজিক কারণে একত্রে বসবাস করতে পছন্দ করে। ময়মনসিংহ জেলা বাংলাদেশের একটি বৃহৎ সমভূমি অঞ্চলের অংশ, বিশেষ করে ব্রহ্মপুত্র নদের প্লাবনভূমি এবং উর্বর কৃষিজমির কারণে এখানে পুঞ্জীভূত বসতি ব্যাপকভাবে দেখা যায়। কৃষিনির্ভর গ্রামীণ সমাজ ব্যবস্থায় এই ধরনের বসতি খুবই সাধারণ।

        
  • ময়মনসিংহ: এই জেলাটি সমতল ও উর্বর ভূমি দ্বারা গঠিত, যা কৃষিকাজের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এখানে ঐতিহাসিক এবং সামাজিক কারণে গ্রামগুলোতে ঘরবাড়িগুলো একে অপরের কাছাকাছি গড়ে উঠেছে, যা পুঞ্জীভূত বসতির প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
  •     
  • নারায়ণগঞ্জ: যদিও এটি একটি জনবহুল এবং শিল্পোন্নত জেলা, এখানকার বসতিগুলো প্রায়শই শিল্পাঞ্চল বা নদী তীরবর্তী এলাকায় রৈখিক (Linear) অথবা নগরভিত্তিক ঘন বসতির মিশ্ররূপ। এটি আদর্শ পুঞ্জীভূত গ্রামীণ বসতির উদাহরণ নয়।
  •     
  • রাঙ্গামাটি: এটি পার্বত্য অঞ্চলের একটি জেলা। এর ভূ-প্রকৃতি বন্ধুর এবং অসমতল। এখানকার বসতিগুলো সাধারণত বিক্ষিপ্ত (Dispersed) বা পাহাড়ের ঢাল বা উপত্যকা বরাবর রৈখিক প্রকৃতির হয়ে থাকে। এখানে পুঞ্জীভূত বসতি খুব কম দেখা যায়।
  •     
  • পটুয়াখালী: এটি একটি উপকূলীয় জেলা, যেখানে অসংখ্য নদী-নালা ও খাল রয়েছে। এখানকার বসতিগুলো প্রায়শই বাঁধের কিনারা, নদীর পাড় বা উঁচু ভূমিতে রৈখিক বা বিক্ষিপ্তভাবে গড়ে ওঠে, কারণ বন্যা এবং ভূমি গঠনের বৈচিত্র্য পুঞ্জীভূত বসতির জন্য প্রতিকূল।

উপরিউক্ত বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বাংলাদেশের সমতল ও কৃষিনির্ভর ময়মনসিংহ জেলায় পুঞ্জীভূত বসতি দেখা যায়।

Satt AI
Satt AI
3 months ago

(Classification of Rural Settlement in Bangladesh)

সাধারণভাবে প্রাথমিক উপজীবিকার ওপর নির্ভরশীল কোনো জনগোষ্ঠীর বসতিকে গ্রামীণ বসতি বলা হয়। এ ধরনের বসতির অধিবাসীরা প্রধানত কৃষিকাজ, পশুপালন, মাছ শিকার, বৃক্ষ কর্তন প্রভৃতি পেশায় নিয়োজিত থাকে। বাংলাদেশে ৬৩% লোক গ্রামে বাস করে (UN Population Devision's World Urbarization Prospects: 2018 Revision)। নিচে বাংলাদেশের গ্রামীণ বসতির শ্রেণিবিভাগ আলোচনা করা হলো।

১.পল্লীবসতি: অতি ক্ষুদ্রাকার জনবসতিকে পল্লীবসতি বলে। প্রধানত ৩ হতে ৫টি বাড়ি নিয়ে এই বসতি গঠিত।

বৈশিষ্ট্য:

১. অধিবাসীদের জীবনযাত্রা খুবই নিম্নমানের।
২. বাড়িগুলো স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য উপকরণ অর্থাৎ মাটি বা চাটাই দ্বারা তৈরি।
অবস্থান: বাংলাদেশের পাহাড়িয়া ও চর অঞ্চলে এ শ্রেণির, বসতি দেখা যায়।

২. গ্রাম্য বসতি: অপেক্ষাকৃত বৃহৎ পল্লীবসতিকে গ্রাম্য বসতি বলে।

বৈশিষ্ট্য:

১. এতে অধিক সংখ্যক বাড়ি থাকে।
২. এ বসতির অধিকাংশ বাড়িঘর বাঁশ, ছন বা মাটির তৈরি।
৩. মাঝে মাঝে ইট বা টিনের তৈরি বাড়িও দেখা যায়।
৪. এটি পল্লীবসতির চেয়ে উন্নত।

অবস্থান: বাংলাদেশের নদী তীরবর্তী অঞ্চলের প্রায় সর্বত্রই এ শ্রেণির বসতি দেখা যায়। যেমন: শীতলক্ষ্যা তীরবর্তী আগুয়ান্দী গ্রাম।

৩. বিক্ষিপ্ত বসতি: বিক্ষিপ্ত বসতি বলতে এমন একটি বসতিকে বোঝানো হয় যেখানে দুই বা তিনটি ঘরের অবস্থান থাকে যা এক বা দুইটি পরিবারের ৫/৭ জনের আবাসস্থল।
বৈশিষ্ট্য:

১. কৃষি জমির মাঝখানে এ ধরনের বসতি গড়ে ওঠে।
২. এ ধরনের বসতিতে দুই থেকে চারটি বাড়ি থাকতে পারে।
৩. পরিবারের আকার বাড়ার কারণে দেশে বিক্ষিপ্ত বসতির সংখ্যা বাড়ছে।

অবস্থান: বাংলাদেশের প্লাবন সমভূমির প্রায় সব জায়গায় বিক্ষিপ্ত বসতির প্রাধান্য পরিলক্ষিত হয়। রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী; পাবনা, নোয়াখালী ও বরিশাল অঞ্চলে এ ধরনের বসতি অধিক।
পুরাতন ব্রহ্মপুত্র, পদ্মা ও ধলেশ্বরী প্লাবন ভূমি এবং সিলেটের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশে এ বসতি দেখা যায়।

৪. নিবিড় বসতি (পুঞ্জিভূত বসতি): কোনো বিশেষ সুবিধার জন্য যখন কোনো স্থানে অনেকগুলো বাড়ি একত্রে অবস্থান করে তখন তাকে নিবিড় বসতি বলে।

বৈশিষ্ট্য:
১. উন্নত অর্থনৈতিক অবস্থা দেখা যায়।
২. বসতিগুলো পরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠে।
৩. শিক্ষার হার ও পরিবহন ব্যবস্থা ভালো।
৪. এ ধরনের বসতিতে সমবায় কৃষি পদ্ধতি দেখা যায়।
৫. ২০০-৪০০ পরিবার একসাথে বাস করে।

অবস্থান: সিলেটের পাহাড়িয়া অঞ্চল। এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙালিরা শান্তি বাহিনীর ভয়ে এ ধরনের বসতি গড়ে তুলেছিল যা এখনও টিকে রয়েছে। কুষ্টিয়া, মেহেরপুর এবং মধুপুরে এ ধরনের বসতি দেখা যায়।,

৫. সারিবদ্ধ বসতি: যে বসতিগুলো পাশাপাশি অবস্থিত হয়ে একটি অবিচ্ছিন্ন সারি (Line) সৃষ্টি করে তাকে সারিবদ্ধ বসতি বলে। এ ধরনের বসতি কখনও কখনও ৫/৬ মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। একে রৈখিক বসতিও বলা হয়।

বৈশিষ্ট্য:

১. এ ধরনের বসতি দীর্ঘ সময় নিয়ে গড়ে ওঠে।
২. সেবা সুবিধা (বাজার, শিক্ষা) সুবিধাজনকভাবে গড়ে তোলা যায় না।
৩. অধিবাসীদের সামাজিক যোগাযোগ গড়ে তোলা কঠিন হয়।

অবস্থান: বাংলাদেশের ছোট বড় সব নদীর তীরে এবং রেললাইন ও রাস্তার পাশে প্রধানত এ বসতি দেখা যায়। মৃতপ্রায় ব-দ্বীপ অঞ্চলে সারিবদ্ধ বসতি দেখা যায়। বরেন্দ্র অঞ্চলের নদীসমূহ খুব একটা সক্রিয় নয়। তাই নদীর দুই পাড়েই সারিবদ্ধ বসতি দেখা যায়। সিলেটের চা বাগান অঞ্চলে ও সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চলে সারিবদ্ধ বসতি দেখা যায়।

৬. গোলাকার বসতি শুষ্ক অঞ্চলের কোনো ঝরণা বা হ্রদ বা অন্য কোনো আকর্ষণীয় স্থানের চারপাশে যে বসতি গড়ে ওঠে তাকে গোলাকার বসতি বলা হয়।

বৈশিষ্ট্য:
১. বিল ও ডোবা এলাকায় গোলাকার বসতির প্রাধান্য বেশি।
২. ধর্মীয় উপাসনালয়কে ঘিরে অনেক সময় এ ধরনের বসতি গড়ে ওঠে।

অবস্থান: বাংলাদেশের দিনাজপুর, কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, খুলনার ডাকাতিয়া বিল ও রাজশাহীর চলন বিলে এ ধরনের বসতি দেখা যায়।
শিল্পের অনগ্রসরতা, অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, কৃষিনির্ভর অর্থনীতি বাংলাদেশে গ্রামীণ বসতি গড়ে উঠতে সাহায্য করেছে। এছাড়া ব-দ্বীপ গঠিত প্লাবন সমভূমি, পাহাড় ও উচ্চভূমির অবস্থান, নদ-নদীর আধিক্য ও হাওড়-বাওড় ইত্যাদির উপস্থিতি এদেশের গ্রামীণ বসতির গঠনে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।

বসতি (Settlement) - মোহাম্মদ আরিফুর রহমান ও ইকবাল উদ্দিন আহমেদ মিঠু স্যারে লেখা বই

Related Question

View All
  • ক
    পুঞ্জিভূত
  • খ
    সারিবদ্ধ
  • গ
    গোলাকার
  • ঘ
    বিচ্ছিন্ন
795
  • ক
    সারিবদ্ধ
  • খ
    পুঞ্জিভূত
  • গ
    বিক্ষিপ্ত
  • ঘ
    বিচ্ছিন্ন
736
  • ক
    পল্লী
    100%
    2 votes
  • খ
    বিক্ষিপ্ত
    0%
    0 votes
  • গ
    গ্রাম্য
    0%
    0 votes
  • ঘ
    নিবিড়
    0%
    0 votes
1.3k
  • ক
    দক্ষিণাঞ্চল
    0%
    0 votes
  • খ
    দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চল
    0%
    0 votes
  • গ
    দক্ষিণ পূর্বাঞ্চল
    100%
    1 votes
  • ঘ
    বরেন্দ্র অঞ্চল
    0%
    0 votes
1k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews

Question Analytics

মোট উত্তরদাতা

জন

সঠিক
ভুল
উত্তর নেই